গণহত্যা জাদুঘরের প্রথম আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয় ২৫ ও ২৬ নভেম্বর ২০১৭, ঢাকার বাংলা একাডেমি মিলনায়তনে। দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সেমিনারের শিরোনাম ছিলো ‘১৯৭১ : গণহত্যা-নির্যাতন ও মুক্তিযুদ্ধ’। এতে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং কম্বোডিয়ার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহন করেন।

২৫ নভেম্বর উদ্বোধনী দিনে মুক্তিযুদ্ধে নানাভাবে সম্পৃক্ত হয়ে অবদান রাখা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত ও বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করেন। ১৯৭১-এ বাঙালি জাতির ওপর পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও তার দোসরদের নৃশংস গণহত্যা ও নির্যাতনের ভয়াবহতা বিশ্বব্যাপী তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন দেশি-বিদেশি বিশিষ্টজন। তারা বলেছেন, স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরও পাকিস্তানি বাহিনী সেই নৃশংস গণহত্যা ও নির্যাতনকে অস্বীকার করতে তৎপর রয়েছে। এ জন্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় ঘোষণার পরপরই তারা পরিকল্পিতভাবে মিথ্যাচারে লিপ্ত হয়। এ ব্যাপারে বিশ্বব্যাপী জনমত গড়ে তুলতে হবে। বক্তারা একাত্তরের স্মৃতিচারণ করে বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর আদলে বিশ্বের অনেক দেশে এখনও নৃশংস গণহত্যা-নির্যাতন চলছে শক্তিশালী দেশগুলোর স্বার্থে। বর্তমানে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যা এর প্রমাণ। এ জন্য বাংলাদেশ সরকারকে আন্তর্জাতিক মহলে গণহত্যা-নির্যাতনের ভয়াবহতা তুলে ধরতে হবে। নয়তো মিয়ানমারে চলমান গণহত্যা-নির্যাতনের রেষ ধরে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে শান্তি স্থাপন করা সুদূরপরাহত হবে। বক্তারা আরও বলেন, পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তাদের শাস্তি না হওয়ায় বাংলাদেশে তাদের দোসরদের যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে দেশটি নাক গলানোর মতো ঔদ্ধত্য দেখাচ্ছে।

সেমিনারে ভারতীয় সাংবাদিক মানস ঘোষ একাত্তরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি রিচার্ড নিক্সন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদকে অপহরণের চেষ্টা করেছিলেন বলে নতুন তথ্য উপস্থাপন করেন।

লে. কর্নেল (অব.) কাজী সাজ্জাদ আলী জহির বীরপ্রতীকের সঞ্চালনায় সেমিনারে পৃথক তিনটি অধিবেশনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যথাক্রমে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী। তিন অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন যথাক্রমে ১৯৭১ গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর ট্রাস্টের সভাপতি বঙ্গবন্ধু চেয়ারের অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, শিক্ষবিদ বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির। পৃথক অধিবেশনে বক্তব্য দেন ভারত সরকারের ন্যাশনাল রিসার্চ প্রফেসর জয়ন্ত কুমার রায়, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননাপ্রাপ্ত টমাস এ ডাইন, ভারতের সাংবাদিক মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননাপ্রাপ্ত হিরণ্ময় কার্লেকার, সাংবাদিক মানস ঘোষ, যুক্তরাজ্যের সমাজসেবী ও মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননাপ্রাপ্ত জুলিয়ান ফ্রান্সিস, ভারতের অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা আর পি সিং, ভারতের পশ্চিম বাংলা রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেসবাহ কামাল।

সেমিনারে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, পাকিস্তান সৃষ্টির পরপরই বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরেছিলেন, ওই কাঠামোতে বাঙালি জাতির ভাগ্যোন্নয়ন হবে না। তিনি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালির সংগ্রাম ও সম্প্রতি ইউনেস্কোর স্বীকৃতিপ্রাপ্ত একাত্তরের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ভাষণের তাৎপর্য তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভী বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা ও নির্যাতনের বিষয়টি চাপা পড়েছিল। পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা ও নির্যাতনের ভয়াবহ মাত্রা, প্রকৃতই মুক্তিযুদ্ধে কী ঘটেছিল সেসব নিয়ে আরও গবেষণা হওয়া প্রয়োজন। গবেষণার মধ্য দিয়ে প্রকৃত ইতিহাস জাতির সামনে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে উন্মোচন হবে।
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস চাপা দিতে অতীতে ব্যাপক প্রপ্রাাগান্ডা চালানো হয়েছে এবং এখনও সেটা অব্যাহত আছে। এই প্রপাগান্ডার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। হওয়ার পাশাপাশি আরও জোরেশোরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে আহ্বান জানান তিনি।
একাত্তরে বাংলাদেশের জনগণকে নিষ্ঠুরভাবে দমন করতে পাকিস্তান সরকার মার্কিন সহায়তা পেয়েছিল উল্লেখ করে ভারতের প্রফেসর জয়ন্ত কুমার রায় বলেন, নিজের দেশের একটি অংশের বিরুদ্ধে নয় মাস সশস্ত্র সংগ্রামের জন্য অর্থ ও অস্ত্র ইসলামাবাদের শাসকগোষ্ঠীর পক্ষে সংগ্রহ করা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ছাড়া সম্ভব ছিল না। ১৯৫৪-১৯৬৫ সময়কালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানে ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অস্ত্রশস্ত্র বিনামূল্যে সরবরাহ করে।

টমাস এ ডাইন বলেন, মার্কিন সহায়তা পেয়েছিল বলেই পাকিস্তান একাত্তরের গণহত্যা-নির্যাতন করতে পেরেছিল; কিন্তু ভারত সরকারের বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতার কারণে পাকিস্তানকে পিছু হটতে হয়েছে। নয়তো মুক্তিযুদ্ধ আরও দীর্ঘ হতো।

ভারতীয় সাংবাদিক হিরণ্ময় কার্লেকার বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সেক্টর নিয়ে অনেক কাজ হয়েছে। কিন্তু শরণার্থী জীবন এবং গণহত্যা ও নির্যাতন নিয়ে তেমন কাজ হয়নি। দীর্ঘদিন পরে এ ধরনের কাজ শুরু হয়েছে, যা অবশ্যই ভালো উদ্যোগ।

ভারতীয় সাংবাদিক মানস ঘোষ বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে অনেক বই প্রকাশিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র নামে ১৫ খন্ডের একটি বিশাল সরকারি প্রকাশনা আছে। তবে এর পরও অনেক ইতিহাস বাকি রয়ে গেছে।

মানস ঘোষ বলেন, এখন এমনই একটি ঘটনার কথা তিনি বলতে চান, যা হয়তো কখনও কোনো গ্রন্থে প্রকাশ হয়নি। যখন মুক্তিযুদ্ধ চলছিল, তখন নিক্সন ও কিসিঞ্জার বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদকে অপহরণের চেষ্টা করেছিলেন। তাজউদ্দীন আহমদ কলকাতায় যে ভবনে (অরবিন্দ ভবন) থাকতেন, তার ঠিক উল্টো দিকেই একটি হোটেলে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার কয়েকজন সদস্য অবস্থান নিয়ে তাজউদ্দীন আহমদের ওপর নজরদারি করতে থাকে। মার্কিন গোয়েন্দা সদস্যরা বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক যন্ত্রও বসিয়েছিল ওই হোটেলে। মানস ঘোষ আরও বলেন, মার্কিনিদের পরিকল্পনা ছিল তাজউদ্দীন আহমদকে ওই ভবন থেকে হেলিকপ্টারে উঠিয়ে সমুদ্রে থাকা সপ্তম নৌবহরে নিয়ে যাওয়া। তবে ভারতীয় বিএসএফ বাহিনী খবর পেয়ে অভিযান চালানোর আগেই মার্কিনিরা তাদের যন্ত্রগুলো রেখে পালিয়ে যায়। বিষয়টি কলকাতার অরবিন্দ ভবনের দায়িত্বে থাকা প্রয়াত এক কর্মকর্তার কাছ থেকে তিনি জেনেছেন বলে দাবি করেন।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে মানস ঘোষ আরও বলেন, এখনও এমন অনেকে জীবিত আছেন, যারা অজানা অনেক ঘটনার সাক্ষী। সংগ্রহ করে না রাখলে ওই ব্যক্তিদের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাসগুলোরও মৃত্যু ঘটবে।

ভারতের অধ্যাপক কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মধ্যে গত কয়েক দশকের ধারাবাহিক আবেগ, ভাষা-সংস্কৃতির সুললিত বন্ধন থাকলেও পশ্চিমবঙ্গে প্রতিবেশী দেশটিতে গণহত্যা, নির্যাতনসহ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চর্চা আজও অনগ্রসর। গণহত্যা-নির্যাতনের ইতিহাস চর্চার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও শাস্তিদানের প্রশ্ন। তাই দেখতে হবে, এই চর্চা কোনোভাবেই যেন মুক্তিযুদ্ধের বাঙালি ভাবাবেগ দ্বারা তাড়িত বা মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় ভূমিকার গর্বানুভূতির দ্বারা প্রভাবিত না হয়; বরং এখানে সুযোগ থাকবে এই আবেগ ও গর্বজাত মনস্তত্ত্বকে বিশ্নেষণ করার।

শাহরিয়ার কবির বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণহত্যা ও নির্যাতনের বাস্তবতাকে খাটো করার ও মুছে ফেলার সব অপচেষ্টাকে প্রতিহত করতে হবে। পাকিস্তান সরকার এখনও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তিনি গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের জন্য পাকিস্তানিদের বিচারের ওপর জোর দেন।
অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, জিয়া-নিজামী গং ৩০ বছর এ দেশের ক্ষমতায় থেকে পাকিস্তানি মনোভাবাপন্ন একটি শ্রেণি গড়ে তুলেছে। এর সংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ। এ জন্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আরও বেশি করে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দিতে হবে। নয়তো দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার বাধাগ্রস্ত হবে।

অধ্যাপক মেসবাহ কামাল বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চর্চায় কৃষক, শ্রমিকসহ সব প্রান্তিক মানুষ অনুপস্থিত। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ছড়িয়ে দিতে হলে প্রান্তিক মানুষকে গুরুত্ব দিতে হবে।
একই মঞ্চে সেমিনারের সমাপনী দিনে অর্থাৎ ২৬ নভেম্বর ২০১৭ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, কম্বোডিয়া ও বাংলাদেশের বিশিষ্টজনরা বক্তব্য দেন। দিনের প্রথম অধিবেশনে বিচারপতি শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিকের সভাপতিত্বে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কম্বোডিয়ার মানবধিকার কর্মী মান সোক্কিয়ান, বাংলাদেশের ফওজুল আজিম ও ব্যারিষ্টার তুরিন আফরোজ। সমাপনী অধিবেশনে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবিরের সভাপতিত্বে আলোচনা করেন যুক্তরাষ্ট্রের টমাস এ ডাইন, ভারতের অধ্যাপক জয়ন্ত কুমার রায়, কম্বোডিয়ার মান সোক্কিয়ান, যুক্তরাজ্যের জুলিয়ান ফ্রান্সিস ও অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন।

ড. মুনতাসীর মামুন বলেন, বিএনপি-জামায়াত গণহত্যার পক্ষে অবস্থান করছে। কিন্তু গণহত্যার বিচার পাওয়া বীর শহিদদের অধিকার। তাই বিএনপি-জামায়াতের বিচার হওয়া উচিত। এমনকি যারা গণহত্যার পক্ষে তাদেরও বিচার করতে হবে। ১৯৭১ সালের গণহত্যা এখনও প্রাসঙ্গিক। কারণ পাকিস্তান এখনও গণহত্যার বিচারের বিরুদ্ধে বিবৃতি দিচ্ছে।

শাহরিয়ার কবির বলেন, পাকিস্তানি রাজাকার এবং তাদের সহযোগীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা। ১৯৭১ সালের গণহত্যাতে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিতে হবে। যেখানে আর্মেনিয়া, রুয়ান্ডা গণহত্যার স্বীকৃতি পেয়েছে, সেখানে কেন বাংলাদেশ গণহত্যার স্বীকৃতি পাবে না।

টমাস এ ডাইন বলেন, বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে গণহত্যা হয়েছে। তখন বাংলাদেশের নাগরিকদের ভারত আশ্রয় দিয়েছিল। বাংলাদেশও রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে মানবাধিকারের প্রশ্নে অবদান রেখেছে।
জয়ন্ত কুমার রায় বলেন, তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক অনেক বই পড়েছেন। তিনি মনে করেন, বীরাঙ্গনা বইটি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বিতরণ করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তির মূল্যেৎপাটন করতে হবে।

একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে ব্রিটিশ মানবাধিকারকর্মী জুলিয়ান ফ্রান্সিস বলেন, বাংলাদেশে ১৯৭১ সালের এক ভয়াবহ গণহত্যা হয়েছে। এই গণহত্যার স্বীকৃতি এখনও দেওয়া হয়নি। এই গণহত্যার স্বীকৃতি অবশ্যই দিতে হবে।

সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক বলেন, মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতা করায় ভারতকে অভিনন্দন। ভারত আমাদের সর্বকালের সেরা বন্ধু।

ব্যারিস্টার তুরীন আফরোজ বলেন, ‘জেনোসাইড’-এর বাংলা অনুবাদ হিসেবে ‘গণহত্যা’ শব্দটি যে ব্যবহৃত হয় তা সঠিক নয়। কেননা বিশ্বজুড়ে জেনোসাইড মানে শুধু হত্যাই নয়, নির্যাতন ও ধর্ষণকেও বোঝায়। একাত্তরে বাংলাদেশের মানুষের ওপরে জেনোসাইড করা হয়েছিল।

সেমিনারে বাংলাদেশের আইন কমিশনের মুখ্য গবেষণা কর্মকর্তা ফউজুল আজিম জানান, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষ ২৫৩টি অভিযোগ এনেছে। যার মধ্যে ১৭০টি প্রমাণ হয়েছে।

গণহত্যা-নির্যাতন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষণা কেন্দ্র এবং ১৯৭১ : গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর ট্রাস্টের উদ্যোগে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক সেমিনারে বার বার আলোচনায় এসেছে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার ও তাদের সহযোগীদের কৃত জঘন্য অপরাধসমূহকে আন্তর্জাতিক ভাবে সামনে আনা। বঙ্গবন্ধু অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন এবং জাদুঘরের ট্রাস্টি শাহরিয়ার কবিরের উদ্যোগে যেভাবে ২৫ মার্চকে জাতীয় গণহত্যা দিবস হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি আদায় করা হয়, তেমনিভাবে আন্তর্জাতিক পরিম-লে ২য় বিশ্বযুদ্ধের পরে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে নিষ্ঠুরতম হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় করা সম্ভব হবে।

© Genocide Museum Bd | All Rights Reserved | Developed by M Dot Media